ঢাকা , রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ , ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীদের নিয়ে সবুজ মিশন : ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচি

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৮-০৬-২০২৬ ০১:১১:০৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৮-০৬-২০২৬ ০১:১১:০৯ অপরাহ্ন
শিক্ষার্থীদের নিয়ে সবুজ মিশন : ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচি ফাইল ছবি
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যুক্ত করতে ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। জাতীয় সবুজ মিশনের আওতায় এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাড়ি ও বসতভিটায় এক কোটি গাছের চারা রোপণ করা।

পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, উজাড় হওয়া বন পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আগামী ৫ বছরে দেশে মোট ২৫ কোটি গাছ লাগানোর একটি বড় পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচিটি এই মহাপরিকল্পনারই অংশ, যা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ও জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সম্প্রতি বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাড়ি ও বসতভিটায় এক কোটি গাছ লাগানোর জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে সরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনায়নের মাধ্যমে প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিবার ও সমাজকে সঙ্গে নিয়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যার কাজে সরাসরি অংশ নিতে পারবে। এর পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সচেতনতার বিষয়টিকে এখন শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক দায়িত্ববোধ তৈরীর অংশ হিসেবে ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং শিক্ষায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সচেতনতা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

রোপণ করা চারার টিকে থাকার হার বাড়ানো এবং কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ তৈরি করছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে সারা দেশে রোপণ করা গাছ ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা হবে। বাজেট ও জলবায়ু প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই অ্যাপ চারা রোপণ ও পরিচর্যার কাজকে আরও সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করবে। একই সঙ্গে বন অধিদপ্তরের জিপিএস ও জিআইএস-ভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে বনায়ন এলাকার সব তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচির জন্য এই ডিজিটাল নজরদারি খুবই দরকারি। কারণ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থীরা যার যার বাড়িতে চারা লাগাবে, যা প্রথাগত বা সাধারণ উপায়ে নিয়মিত তদারকি করা বেশ কঠিন। এই উদ্যোগটি সরকারের জাতীয় সবুজ মিশনের একটি বড় অংশ। এর আওতায় রাস্তাঘাট, মহাসড়ক, বাঁধ, নদী ও খালের পাড়ের খালি জায়গায় গাছ লাগানো, শহরের বনায়ন এবং কৃষি-বনায়ন সম্প্রসারণ করা হবে।

এ ছাড়াও উপকূলীয় চরাঞ্চলে ম্যানগ্রোভ (উপকূলীয় বন) বনায়ন, উপকূলীয় প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, পাহাড়ি ও মধ্যাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত শালবন পুনরুদ্ধার এবং বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন বনজ প্রজাতির গাছ রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশবান্ধব কৌশলের অংশ হিসেবে সরকার উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনের ৫০ শতাংশ এলাকাকে ‘কার্বন ক্রেডিট’ বা কার্বন বাণিজ্য ব্যবস্থার আওতায় এনে রাজস্ব আয়েরও পরিকল্পনা করছে।

বাজেট নথি অনুযায়ী, এই ২৫ কোটি গাছ লাগানোর বিশাল কর্মসূচির মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষের সবুজ কর্মসংস্থান বা কাজের সুযোগ তৈরি হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় বাজেটটি দশটি কৌশলগত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে সুরক্ষা দেওয়া, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জনগণের অংশগ্রহণে বনায়নকে একটি সবুজ বিপ্লবে রূপ দেওয়া অন্যতম লক্ষ্য। এর উদ্দেশ্য হলে- ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই, সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’

সরকারের কর্মপরিকল্পনা ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার কাজও চলছে। ফলে শিক্ষা, জনসম্পৃক্ততা ও বনায়নকে এক সুতোয় গেঁথে ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচিটি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত কৌশলের একটি অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হতে যাচ্ছে।
 
বাংলাস্কুপ/ প্রতিবেদক/এনআইএন

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ